ব্যাপনের গুরুত্ব বলে শেষ করা যাবে না। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণটা হলো ব্যাপন ছাড়া কোনো জীব বাঁচতেই পারবে না। সেটা কিভাবে? তোমরা তো জানো, আমাদের শরীরের কোষগুলোর বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেন প্রয়োজন। এই অক্সিজেন আমরা শ্বাস নেওয়ার মাধ্যমে বাতাস থেকে নিই। তারপর? তারপর ওই অক্সিজেনটা বিভিন্ন রক্তনালি হয়ে আমাদের শরীরের কোটি কোটি কোষে চলে যায়। কোষের পর্দা গলে সেই অক্সিজেন ঢুকে পড়ে কোষের ভেতরে। এই ঢুকে পড়ার প্রক্রিয়াটা ঘটে ব্যাপন প্রক্রিয়ায়।
এদিকে ব্যাপনের মতোই আরেকটি প্রক্রিয়া হলো অভিস্রবণ। প্রথমে ব্যাপনের বিষয়টা শোনার পর তোমাদের মনে হলো বেশি চাপাচাপি অবস্থা থেকে খোলামেলা অবস্থার দিকে যাওয়াটাই ব্যাপন; কিন্তু অভিস্রবণের বিষয়টা আবার উল্টো। এটা ঘটে পানিতে। এখানে বিষয়টা উল্টোভাবে কাজ করে। মানে অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় পানির দ্রাবক অণু (মানে পানির অণু) একটা পর্দা ভেদ করে বেশি ঘনত্বের দিকে চলে যেতে চায়। একটা উদাহরণ দিলেই বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে যাবে। পরীক্ষার নাম কিশমিশ পরীক্ষা। কয়েকটি শুকনো কিশমিশকে একটা কাপে পানি ঢেলে তাতে কয়েক ঘণ্টা ছেড়ে রাখো। পরে দেখবে কিশমিশগুলো ফুলে ঢোল। কারণ অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় কিশমিশের পাতলা পর্দা ভেদ করে ভেতরে পানি ঢুকে গেছে। এটাও এক ধরনের ব্যাপন।
সুতরাং ব্যাপন বলতে আমরা বুঝি চাপের মধ্যে থাকা বস্তুকণার কম ঘনত্বের মধ্যে ছড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা। আর অভিস্রবণ হলো কম ঘনত্ব থেকে (সাধারণ পানি) বেশি ঘনত্বের বস্তুর (শুকনো কিশমিশ) দিকে তরল পদার্থের পরিবহন। এই ফাঁকে জেনে রাখো যে, গাছের শিকড় কিন্তু এই অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায়ই মাটি থেকে পানি ও পানিতে দ্রবণ আকারে মিশে থাকা খনিজ পদার্থ শোষণ করে।
শিক্ষক ০৮ মার্চ, ২০২২
bad
শিক্ষক ০৮ মার্চ, ২০২২
nice
শিক্ষক ০৮ মার্চ, ২০২২
nice
মোট সঠিক উত্তর: ৫
মোট প্রতিযোগী: ১৩
মতামত দিন